ডি.এল.এস নম্বর ছাড়াই কৃত্রিম প্রজননের অভিযোগ আমেরিকান ডেইরী,নাম ব্যবহার করে অবৈধ পশু চিকিৎসা,বটিয়াঘাটা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ 

খুলনা,প্রতিনিধি:

 

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা এলাকায় সরকারি অনুমোদন ও ডি.এল.এস নম্বর ছাড়াই গাভীর কৃত্রিম প্রজনন (এআই) ও পশু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কয়েকজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এআই কর্মী।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুলটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুকুন্দ পাল (পিতা: মৃত রতিকান্ত পাল) দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি ডি.এল.এস নম্বর, স্বীকৃত শিক্ষা সনদ বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজেকে এআই কর্মী পরিচয় দিয়ে গাভীর কৃত্রিম প্রজনন ও পশু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি “আমেরিকান ডেইরী নাম ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মবহির্ভূতভাবে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-এর প্রচলিত নীতিমালা পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এআই কর্মীদের দাবি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অনুমোদন ছাড়া কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনার ফলে খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে কাজ করা কর্মীরাও পেশাগতভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

মনিরুজ্জামান (ডালিম)-এর বক্তব্য ডি.এল.এস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এআই কর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান (ডালিম) বলেন,সরকারি অনুমোদন ছাড়া কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা করলে পশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এতে খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা যারা নিয়ম মেনে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছি, তারাও ক্ষতির মুখে পড়ছি। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।ইসমাইল শেখ-এর বক্তব্য

অভিযোগকারী ডি.এল.এস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এআই কর্মী মোঃ ইসমাইল শেখ বলেন,

ডি.এল.এস নম্বর ও স্বীকৃত প্রশিক্ষণ ছাড়া এআই কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। সঠিক নিয়ম না মানায় অনেক সময় গাভী গর্ভধারণে ব্যর্থ হয় এবং খামারিদের আর্থিক ক্ষতি হয়। এতে সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রতিও মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।অসীম কুমার পাল-এর বক্তব্য ডি.এল.এস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এআই কর্মী অসীম কুমার পাল বলেন,অননুমোদিতভাবে এআই কার্যক্রম পরিচালনা করলে শুধু খামারির ক্ষতিই নয়, পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যায়। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, যাতে প্রাণিসম্পদ খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে।

অভিযোগকারী কর্মীরা জানান, বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নিকট আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুকুন্দ পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদপত্র রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আমার সার্টিফিকেট আছে। হয়তো অনলাইনে পাওয়া যাবে না, তবে আমি বৈধভাবেই কাজ করছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় খামারিদের মতে, সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা না হলে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।