এমআরএ-এর নির্দেশনা উপেক্ষা; ঈশ্বরদীতে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের কর্মীদের শনিবারও কিস্তি আদায়ে বাধ্য করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,পাবনা:

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) বাংলাদেশ, সারা দেশের এনজিও কর্মীদের জন্য শুক্রবার ও শনিবার দুদিন ছুটি ঘোষণা করলেও ঈশ্বরদীর নিউ এরা ফাউন্ডেশনসহ বেশ কিছু এনজিওতে তার প্রতিফলন ঘটছে না। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কর্মীদের জোরপূর্বক শনিবারেও মাঠে পাঠানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি আদেশ অমান্য করা হচ্ছে, অন্যদিকে এনজিও কর্মীদের ওপর বাড়ছে অমানবিক কর্মঘণ্টার চাপ।

আদেশ অমান্য ও কর্মঘণ্টার লঙ্ঘন
জানা গেছে, এমআরএ-এর নির্দেশনার পর প্রথম এক-দুই সপ্তাহ শনিবার ছুটি পালন করা হলেও বর্তমানে তা মানছে না নিউ এরা ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। অফিস বন্ধ রাখার নাটকীয়তা বজায় রেখে আড়ালে কর্মীদের কিস্তি আদায়, নতুন সদস্য ভর্তি এবং বকেয়া আদায়ের জন্য জোরপূর্বক মাঠে পাঠানো হচ্ছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার বিধান থাকলেও এখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন এনজিও কর্মীকে সকাল ৭:৩০ মিনিটে অফিসে যোগ দিতে হয়, আর কাজ শেষ করে ফিরতে ফিরতে রাত ৮টা থেকে ৯টা বেজে যায়। কোনো অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা (Overtime) ছাড়াই প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এনজিও কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সকালে যখন বের হই তখন সন্তানরা ঘুমিয়ে থাকে, আবার যখন বাসায় ফিরি তখনও তারা ঘুমিয়ে থাকে। সন্তানদের সাথে ঠিকমতো কথা বলার সময়টুকুও আমরা পাই না।”

শিকাগোর শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার জন্য জীবন উৎসর্গ করলেও বর্তমানে এনজিও খাতে তার চিত্র উল্টো। শাখা ম্যানেজারদের কঠোর নির্দেশ—কিস্তি আদায় না করে অফিসে ফেরা যাবে না। চাকরি হারানোর ভয়ে এবং সংসারের তাগিদে মুখ বুজে এই অনিয়ম মেনে নিতে হচ্ছে শত শত এনজিও কর্মীকে।

সরকারি ছুটি ও কর্মঘণ্টার এই স্পষ্ট লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এমআরএ-এর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন কর্মীদের বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী কর্মীরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়বেন। দীর্ঘ সময় কাজ এবং ছুটির অভাব তাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঈশ্বরদীর এনজিও কর্মীদের জোর দাবি—এমআরএ-এর ঘোষিত শনিবারের ছুটি কার্যকর করা হোক এবং অমানবিক কর্মঘণ্টার অবসান ঘটিয়ে সুস্থ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।